কিভাবে সহজে পাসপোর্ট করবেন? পাসপোর্টের A টু Z - ABC Media BD

Breaking

Thursday, January 16, 2020

কিভাবে সহজে পাসপোর্ট করবেন? পাসপোর্টের A টু Z


আপনি আমি কম বেশি সবাই পাসপোর্ট এর নাম জানি এবং পাসপোর্ট কি কাজে ব্যবহার হয় সেটাও আমরা জানি। তারপরেও আমি আপনাদের মধ্যে যারা জানেন না তাদের জন্য আর একবার বলছি।

কিভাবে সহজে পাসপোর্ট করবেন? পাসপোর্টের A টু Z
কিভাবে সহজে পাসপোর্ট করবেন? পাসপোর্টের A টু Z

পাসপোর্ট কি?


পাসপোর্ট হচ্ছে দেশের সরকার দ্বারা দেশের মানুষদের দেশের বাহিরে যাওয়ার জন্য যে বৈধ অনুমিত সম্বলিত একটি বই। এই বইকে বলা হয় পাসপোর্ট বই। যেখানে বিভন্ন এম্বেসির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ভিসা লাগানো হয়। বাংলাদেশ সরকারে পাসপোর্ট হলো বাংলাদেশ পাসপোর্ট প্রদত্ত সেই বই। দেশের বাহিরে আপনি যদি যেতে চান তাহালে আপনাকে অবশ্যব পাসপোর্ট ১০০% প্রয়োজন।

পাসপোর্ট কত প্রকার?


বাংলাদেশ সরকার নাগরিকদের জন্য সাধারণত ৩ ধরনের পাসপোর্ট ইস্যু করেছে।

(১) আন্তর্জাতিক সাধারণ পাসপোর্ট (সবুজ মলাট)

(২) সরকারি পাসপোর্ট (নীল মলাট)

(৩) কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল মলাট)

কিভাবে বাংলাদেশে সহজে পাসপোর্ট করবেন?


আসলে আমরা যেভাবে সহজে পাসপোর্ট তৈরি করার কথা বলছি সেটা ততোটা সহজ নয়। কারণ আমরা পাসপোর্ট করার জন্য দালালের শরণার্থী হয়ে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে থাকি। কিন্ত বর্তমানে দালালের কাছে যাওয়ার দরকার হয় না বলে আমি মনে করি। কারণ আপনি যদি একটু সাহস করে নিজে নিজে করার চেষ্টা করেন তাহালে আপনি পারবেন। এটা কঠিন কিছু নয়।

আপনার সিম কার এনআইডি (NID) দিয়ে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে চেক করুন গ্রমীনফোন এয়ারটেল রবি বাংলালিংক টেলিটক

আমি গুগলে সার্চ করে পাসপোর্টের বিষয়ে সব কিছু জেনেছি। তারপরে আমি নিজে নিজে নিজের পাসপোর্ট করেছি কোনো প্রকার দালাল ছাড়াই। আপনি যদি নিজের উপর ভরসা করেন তাহালে আপনিও পারবেন। আপনি কিভাবে পাসপোর্ট করবেন সেটা আমি ধাপে ধাপে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

পাসপোর্টের জন্য ফি জমা দেয়া


আপনাকে সর্বপ্রথম পাসপোর্ট করার জন্য ফি জমা দিতে হবে। সাধারণ পাসপোর্ট করার জন্য ৩০০০ টাকা + ৪৫০ টাকা ভ্যাট মোট ৩৪৫০ টাকা এবং জরুরী পাসপোর্টের জন্য ৬০০০ টাকা + ৯০০ টাকা ভ্যাট মোট ৬৯০০ টাকা জমা দিতে হবে। টাকা আপনি দুই (২) ভাবে জমা দিতে পারেন।

(১) অনলাইনে

(২) ব্যাংকে গিয়ে

তবে আমার মতে আপনারা ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেয়াটা ভালো হবে। আপনি ব্যাংকে গিয়ে বলবেন আমি পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য টাকা জমা দিবে। তখন ব্যাংক থেকে আপনাকে একটি জমা রসিদ দেবে, সেটা সঠিকভাবে পূরণ করে টাকা জমা দেবেন। যেসব ব্যাংকে পাসপোর্টের জন্য টাকা জমা নেয়, সেই ব্যাংক গুলোর নাম আমি নিচে বলে দিচ্ছি-


  • সোনালি ব্যাংক
  • এশিয়া ব্যাংক
  • ঢাকা ব্যাংক
  • ওয়ান ব্যাংক
  • ট্রাস্ট ব্যাংক
  • প্রিমিয়াম ব্যাংক


আমি সোনালি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছিলাম। আপনার উপরের যে কোনো একটি ব্যাংকে পাসপোর্টের জন্য টাকা জমা দিতে পারেন। যেই ব্যাংক আপনার নিকটে সেই ব্যাংকে জমা দেন। যে ব্যাংকে টাকা জমা দিবেন অবশ্যব টাকা জমার রসিদ নিবেন।

এন্ড্রয়েড মোবাইল স্লো কাজ করছে? এন্ড্রয়েড মোবাইল ফাস্ট করার সেরা ৫ টি উপায়

তাছাড়া, আপনারা অনলাইনেও পাসপোর্টের জন্য টাকা জমা দিতে পারেন। তবে এটে একটু খরচ বেশি হয়। আনলাইনে টাকা জমা দেবার পরে অবশ্যব টাকার রসিদ নিবেন। আর টাকার রসিদ ফটোকপি করে রাখবেন।

পাসপোর্টের ফি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাসপোর্টের জন্য আবেদন ফরম পূরণ করা


পাসপোর্টের টাকা জমা দেবার কাজ শেষ হলে এবার আপনাকে আবেদন ফরম পূরণের কাজ করতে হবে। আপনারা সাধারণত দুই (২) ভাবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

(১) অনলাইনে ফর্ম পূরন করে তারপরে সেটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করা।

(২) ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে তারপর লেখা।

আপনার যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবে আপনি ফর্ম পূরণ করতে পারেন। এটা সম্পর্ন আপনার উপর নির্ভর করে। তবে ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে তারপরে লেখা ভালো। কারণ যদি কোথাও ভুল ধরা পড়ে তাহালে সেটা ঠিক করা যায়। আর যদি অনলাইনে ফর্ম পূরন করেন তাহালে ভালো করে চেক (Check) করে নিবেন আপনি নিজে কয়েক বার।

পাসপোর্টের ফর্ম পেতে এখানে ক্লিক করুন

সাধারণত সবাই পাসপোর্টের ফর্মে কিছু কমান ভুল করে থাকে সেগুলো নিচে আমি উল্লোখ করে দিচ্ছি-

ORDINARY - কোনো সাপোটিং ডকুমেন্ট লাগবে না, এটা সাধারণ জনগণের জন্য।

OFFICIAL - Go অথবা PDS জমা দিতে হবে, যারা উপযুক্ত তাদের জন্য।

DIPLOMATIC - কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না, ডিপ্লোম্যাটদের জন্য।

REGULAR - আপনি ব্যাংকে যদি ৩৪৫০ টাকা জমা দেন তাহালে Regular দিবেন।

EXPRESS - আপনি ব্যাংকে যদি ৬৯০০ টাকা জমা দেন তাহালে Express দিবেন।

আবেদন ফর্মের জন্য আপনি যে ছবি ব্যবহার করবেন সেটা অবশ্যব সত্যায়িত করে নিবেন। মনে রাখবেন ফর্মে ছবি আটা দিয়ে লাগিয়ে তারপর সত্যায়িত করবেন। ছবির সাথে সাথে সার্টিফিকেট এবং এনআইডির ফটোকপি ও সত্যায়িত করবেন।

বায়োমেট্রিক কিভাবে করবেন?


পাসপোর্টের ফর্ম জমা দেয়ার পরে আপনাকে এবার বায়োমেট্রিক করতে হবে। মানে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে। মনে রাখবেন যেদিন বায়োমেট্রিক করতে যাবেন সেদিন সাদা পোশাক পরে যাবেন না। বায়োমেট্রিক করার পর আপনাকে একটি টোকেন দিবে। টোকেনটি অবশ্যব যন্ত সহাকারে রেখে দিবেন। কারণ এই টোকেন জমা দিয়ে আপনাকে পাসপোর্ট নিতে হবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন


আপনি যদি পাসপোর্টের ফর্মে বর্তমান এবং স্হায়ী ঠিকানা একই দেন তাহালে খুব দ্রুত পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। পুলিশ আপনার বাসায় আসবে। এসে আপনার ঠিকানা ভেরিফিকেশন করে নিয়ে যাবে। আর তা না হলে পুলিশ আপনাকে থানায় ডাকতে পারে। আপনি এতে ভয় পাবেন না। কারণ আপনাকে সাধারণ কিছু প্রশ্ন করার জন্য ডাকবে। যেমন- আপনার বাড়ি কোথাও, আপনার এনআইডি কার্ড বের করতে বলবে। এনআইডি কার্ডে আপনার বলা ঠিকানার সাথে মিলিয়ে দেখবে।

পাসপোর্ট সংগ্রহ


আপনার পাসপোর্ট সম্পর্ন হয়ে যাবার পরে আপনার ফোনে একটি মেসেজ চলে আসবে। তাছাড়াও আপনার পাসপোর্টের অবস্থা জানতে এসএমএস এবং অনলাইনের মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। আপনার যদি কেউ চেনাজানা মানুষ থাকে পাসপোর্ট অফিসে তাহালে আরো দ্রুত পাসপোর্ট হয়ে যাবে। পাসপোর্ট নেবার সময় আপনাকে বায়োমেট্রিক করার সময় যে টোকেনটা দিয়েছিলো সেটা জমা দিলে আপনি পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।

সর্বশেষ


তাহালে বন্ধুরা আপনারা জানতে পারলেন কিভাবে  সহজে পাসপোর্ট করবেনপাসপোর্টের A টু Z বিষয় সম্পর্কে। এছাড়া আপনাদের মনে যদি কোনো ধরনের প্রশ্ন থাকে তাহালে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ

2 comments: