ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কত? (What is Bangladesh's position in freelancing?) - ABC Media BD

Breaking

Wednesday, January 22, 2020

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কত? (What is Bangladesh's position in freelancing?)


ফ্রিল্যান্সিং- বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুন, তরুনি সরকারি চাকরি না পেয়ে অগ্রসর হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি ফ্রি বা স্বাধীন পেশা। যেখানে আপনাকে ধরা-বাধা কোনন কাজ করতে হবে না। আপনার যখন ইচ্ছা তখন কাজ করলে চলবে। এটার জন্য কোনো নিদিষ্ট সময় নির্ধারণ করা নেই।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কত? (What is Bangladesh's position in freelancing?)

বর্তমানে যুব সমাজ ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে দিন দিন ঝুকে পড়ছে। কারণ এখানে অল্প সময় কাজ করলে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। এখানে ১ ঘন্টা কাজ করলে সর্বনিম্ন ৫$ ডলার মানে ৫x৮৪= ৪২০ টাকা পেয়ে যাবেন। আর এর উপরে আছে ৩০$ থেকে ৩৫$ ডলার।

যেখানে আপনি সারা দিন অফিসে কাজ করে পাচ্ছেন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর ফ্রিল্যান্সারা ১ ঘন্টা কাজ করে সর্বনিম্ন পাচ্ছেন ৫$ মানে ৪২০ টাকা। আর ফ্রিল্যান্সারা এই কাজ তাদের নিজের ইচ্ছা মতে সময় করছে। তাদের যখন ইচ্ছা তখন করবে। এজন্য বাংলাদেশে দিনে দিনে তরুন সমাজ ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কত?


ফ্রিল্যান্সিং জনগোষ্ঠীর দিকে লক্ষ্য করলে আপনারা দেখতে পাবেন "বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়"। আর ফ্রিল্যান্সিং এর তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে "ভারত"

এর পরের স্থানে রয়েছে অন্য দেশ গুলো যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি দেশ সর্মহ। এই তথ্য প্রকাশ করেন অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের এক বিশেষ প্রতিবেদনে।

বিশ্বে কোন দেশে সবচেয়ে বেশি ফ্রিল্যান্সাররা বাস করে এবং দেশ গুলোর উন্নয়ন কল্পে কোন খাত থেকে বেশি ভূমিকা রাখছে সেগুলো দেখানো হয়েছে অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের এই প্রতিবেদনে।

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মুক্ত চাকরির বাজার। একজন ফ্রিল্যান্সারের বাসস্থান কোথায় সেটা জানা কোন জরুরী বিষয় নয়। তার জন্য প্রথমে ধন্যবাদ দিতে হয় ইমেইল, ভিডিও চ্যাট, মেসেজিং এর মতো প্রযুক্তিগুলোকে। কারণ এই গুলো মাধ্যেমে গোটা বিশ্বের মানুষের সাথে যোগাযোগ করছে ফ্রিল্যান্সাররা।

নিদিষ্ট কোনো দেশ নিদিষ্ট ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য বিশেষ ভাবে পরিচিত লাভ করেছে। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে আর্টিকেল লেখা এবং অনুবাদ ফ্রিল্যান্সার। আবার ভারতে দেখতে পাবেন কম মূল্যছাড়ের সফটওয়্যার ডেভেলপার ও দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের।

অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে বেশিভাগ উন্নয়নশীল দেশগুলো ফ্রিল্যান্সিংকে তাদের পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে। আর তার প্রধান কারণ হচ্ছে তারা চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। আবার অনেকে রয়েছে যারা ফ্রিল্যান্সিং করে এতে টাকা আয় করছে যার কারণে তারা চাকরি করার প্রয়োজন বলে মনে করছে না।

ফ্রিল্যান্সিং জনগোষ্ঠী বিবেচনায় প্রকাশিত শীর্ষ ৩ দেশ


(১) ভারত


সারা বিশ্বের ফ্রিল্যান্সারদের ২৪% বাস করে ভারতে। ভারতে রয়েছে দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা। এই ২৪% ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে ৫৫% এর বেশি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে।

 অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে ভারতের প্রধান রফতানি শিল্প হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং। তাছাড়া ভারত বিশাল দেশ হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির জন্য রছেয়ে ভালো মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। আর এর মাধ্যেমে তেরি হচ্ছে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার। আর সেই কারণে ভারত বিশ্ব ফ্রিল্যান্সিং এর ১ নংবারে।

(২) বাংলাদেশ


ভারতের পরে ফ্রিল্যান্সিং জনগোষ্ঠীর দিক থেকে রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। সারা বিশ্বে মোট ফ্রিল্যান্সারদের ১৬% বাস করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে ৬.৫ কোটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। তার মধ্যে ৫ কোটি ফ্রিল্যান্সার নিয়মিতভাবে কাজ করে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের বেশি ভাগ কাজ করে সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং সার্পোট, ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং প্রযুক্তির কাজে বেশি দেখা যায়।

 অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের মাসিক আয় ৭০$ ডলার এর মতো। যা বাংলাদেশ টাকায় ৫৫০০ টাকার মতো। তবে ফ্রিল্যান্সারদের মাসিক আয় দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নেই ভালো কোনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। যার জন্য অনেক ফ্রিল্যান্সাররা মাঝ পথে ঝড়ে পরছে।

(৩) যুক্তরাষ্ট্র


বাংলাদেশের পরে ফ্রিল্যান্সিং জনগোষ্ঠীর দিক থেকে ৩ নংবারে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। সারা বিশ্বে মোট ফ্রিল্যান্সারদের ১৪% বাস করে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ৫.৫ কোটি ফ্রিল্যান্সার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষা পুরোপুরিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর উপরে নির্ভরশীল নয়। ফ্রিল্যান্সিংকে তাদের প্রথামিক আয়ের উৎস হিসাবে ধরা হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সাররা আর্টিকেল লেখা ও অনুবাদ, ক্রিয়েটিভ মাল্টিমিডিয়া, এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে থাকে। দিন দিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বেড়ে চলেছে।

সর্বশেষ


তাহালে বন্ধুরা আমি আশাকরি ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কত নংবারে এবং বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর চাহিদা সম্পর্ক ধারণা পেয়েছেন। কিন্ত বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর চাহিদা থাকা সত্তে ও নেই ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যেত এক ধাপ। 

3 comments: